বুধবার । ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২

বঙ্গোপসাগরে ৩ ট্রলারে জলদস্যুদের হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১১ মাঝি

গেজেট প্রতিবেদন

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার জেলার গভীর সমুদ্রের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ অন্তত ১১ জন মাঝি আহত হয়েছেন।

জলদস্যুরা তিনটি ফিশিং ট্রলার থেকে জ্বালানি তেল, জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ মনি মাঝির (৫৮) অবস্থা গুরুতর। তিনি আনোয়ারার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড গহিরা এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহমেদের ছেলে। স্থানীয় মো. জসিম কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলারে কর্মরত ছিলেন মনি মাঝি। হামলার পর তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত অন্য মাঝিদের মধ্যে রয়েছেন– হেফাজ মাঝি, আবুল হাসেম, জিয়াউল হক, আবুল কাশেম, আবদুর রহমান, আরফাত, জাবেদ, ফরিদ, জব্বার ও মিজান।

ভুক্তভোগী মাঝিরা জানান, মঙ্গলবার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় মো. জসিম কোম্পানি, মো. হেফাজ কোম্পানি ও মো. কাশেম কোম্পানির মালিকানাধীন তিনটি ট্রলার জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এ সময় দস্যুরা মাঝিদের মারধর ও বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে। পরে ট্রলারগুলোর জ্বালানি ও সব সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। হামলা শেষে চলে যাওয়ার সময় দস্যুরা নিজেদের বাঁশখালী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়।

হামলার শিকার একটি ট্রলার মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপকূলে ফিরে আসে।

বাকি দুটি ট্রলার বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল নাগাদ আনোয়ারা উপকূলে পৌঁছায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিন জানান, ‘মাছ শিকারে গিয়ে তিনটি ট্রলার দস্যুদের কবলে পড়েছে। এতে মনি নামের এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্যদেরও মারধর করা হয়েছে।’

বার-আউলিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি কক্সবাজার জেলাধীন গভীর সমুদ্র এলাকায় ঘটেছে। আমরা বিকেলে গহিরা এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং আহত মাঝিদের সঙ্গে কথা বলেছি।’

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়ামুল হক জানান, একজন মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। সমুদ্রে কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন